যুক্তরাজ্যের সিটিমন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক ফ্ল্যাট এবং অন্যান্য সম্পত্তি নিয়ে আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ায় তার পদত্যাগের দাবি উঠছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সম্পত্তির মালিক এবং একটি বিতর্কিত ফ্ল্যাট উপহার পেয়েছেন।
ডেইলি টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিক উত্তর লন্ডনের একটি ফ্ল্যাট উপহার পেয়েছেন, যা বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠজনের কাছ থেকে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। টোরি এমপিরা এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেছেন, তার খালার রাজনৈতিক দলের মিত্রের দেওয়া এই ফ্ল্যাটটি প্রধানমন্ত্রীর নৈতিকতার উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাস দ্বারা তদন্ত হওয়া উচিত।
প্রথমে টিউলিপ দাবি করেছিলেন, ফ্ল্যাটটি তার বাবা-মা কিনেছিলেন। পরে জানানো হয়, তার বাবা-মা এক বন্ধুকে আর্থিক সহায়তা করেছিলেন, এবং সেই বন্ধুই কৃতজ্ঞতা স্বরূপ ফ্ল্যাটটি উপহার দেন। কিন্তু তার বক্তব্যে পরিবর্তন আসায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
লেবার পার্টির নেতারা টিউলিপকে সমর্থন জানালেও দলীয় এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার অবস্থান ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এখনো তাকে সমর্থন করে যাচ্ছেন। তবে টিউলিপের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দলীয় ইমেজের জন্য বড় সংকট তৈরি করছে।
টোরি এমপিরা টিউলিপের সম্পদের উৎস, তার খালার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র এবং বাংলাদেশের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলিপ স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি করে বলেছেন, "টিউলিপের অবস্থান আরও পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত তাকে পদত্যাগ করতে হবে।"
টিউলিপ সিদ্দিক তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, কোনো ভুল করেননি এবং তার সম্পত্তির মালিকানা বৈধ। তবে তার বিভ্রান্তিকর বক্তব্য তাকে আরও সমালোচনার মুখে ফেলেছে।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে টিউলিপ সিদ্দিকের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর নৈতিক উপদেষ্টা ও অন্যান্য সংস্থা এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
0 মন্তব্যসমূহ